নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি

ইন্টারনেট নির্ভর  এই যুগে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। ইন্টারনেট আমাদের আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। আমাদের জীবনকে কয়েক গুনে সহজ করে দিয়েছে ইন্টারনেট। 

বলতে গেলে পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। কিন্তু সব কিছুরই ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার  তেমনি একটি খারাপ দিক। তবে  ইতিবাচক ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারলে  নিঃসন্দেহে মানুষের জীবন আরো সহজ হয়ে যাবে।অনেক স্টুডেন্ট শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহারের উপকারিতা পাচ্ছে ফলে তারা ঘরে বসে অনেক কিছু জানতে পারছে।  

এজন্য নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করা এবং সঠিক কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন । আজকে আপনাদের সাথে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করার কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি তুলে ধরব।

ইন্টারনেট ব্যবহারে নিরাপত্তা কেন প্রয়োজন? 

ইন্টারনেট  একদিকে মানব জীবনকে সহজ করে তুলেছে। অন্যদিকে এর অপব্যবহার ধ্বংসও ডেকে আনছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার যত বাড়ছে, সাইবার অপরাধও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কিন্তু এই দায় শুধু অপরাধীর নয়। ভুক্তভোগীর অসচেতনতা অপরাধের অন্যতম কারণ। তাই ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাবকে এড়াতে হলে প্রয়োজন ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার। 

নিরাপদ ইন্টারনেট

শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট 

আধুনিক যুগে একটি শিশুকে ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখা মুশকিল।  পড়াশুনা জন্য কিংবা বিনোদনের জন্য  শিশুর হাতে ফোন তুলে দিচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু শিশুর হাতে স্মার্ট  ডিভাইস ধরিয়ে দেয়ার আগে আপনাকেও স্মার্ট হতে হবে। তাই শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করার কিছু কৌশল  জেনে নিন- 

  • ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করে দিন। 
  • নিয়মিত ব্রাউজার হিস্টোরি চেক করুন
  • পাসওয়ার্ড আপনার কাছেই রাখুন৷
  • অনলাইনে কার সাথে যোগাযোগ রাখছে,কি কাজ করছে তা জানার চেষ্টা করুন। 
  • সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখুন। ইন্টারনেটের বিপদগুলো সম্পর্কে সচেতন করুন 

 নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছু পদ্ধতি বা কৌশল

১. সোশ্যাল একাউন্ট সুরক্ষিত রাখুন

সোশ্যাল একাউন্ট বর্তমানে আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক তথ্যই আমরা এসব প্লাটফর্মে শেয়ার করে থাকি।  পরিচিত, অপরিচিত সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে এখন এসব ই ভরসা। আজকাল সোশ্যাল একাউন্টে আমাদের কার্যকলাপ থেকেই আমাদের ব্যক্তিত্ব, কর্মক্ষেত্র, স্ট্যাটাস ইত্যাদি বিচার করা হয়। তাই সোশ্যাল একাউন্ট গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপদ রাখার কিছু কৌশল –

নিরাপত্তা পরীক্ষা:

আপনার একাউন্ট টি অন্য কোথাও লগ ইন আছে কিনা যাচাই করুন। একাউন্ট খোলার সময়ে সিকিউরিটি কোশ্চেন রাখুন। যেগুলো আপনি ছাড়া কেউ জানবে না। কোনো রকম সন্দেহ হলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন অথবা পুনরায় ভেরিফাই করুন।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড:

নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার। সবসময় এমন পাসওয়ার্ড দেয়ার চেষ্টা করবেন, যা অন্যের পক্ষে আন্দাজ করা কঠিন। কিন্তু আপনার জন্য মনে রাখা সহজ। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করতে কমপক্ষে আট ডিজিটেট পাসওয়ার্ড রাখুন। 

প্রতি একাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড:

গুগল, ওয়েবসাইট, ফেসবুক কিংবা যেকোন একাউন্ট ই হোক না কেন, আলাদা পাসওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করুন। নয়ত ভুলক্রমে একটি একাউন্ট হ্যাক হলে অন্য গুলো ও ঝুঁকিতে থাকে। 


একাধিক পাসওয়ার্ড ট্র্যাক:

আপনি বিভিন্ন সাইট বা অ্যাপস এ যেসব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন তা ট্র্যাক করতে এবং সুরক্ষিত রাখতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন।

২- ধাপে যাচাইকরণ:

২- ধাপে যাচাইকরণ নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি দারুণ কৌশল। একাউন্ট খোলার সময়ে আপনার নাম ও পাসওয়ার্ড ছাড়াও সেকেন্ডারি ফ্যাক্টর ব্যবহার করুন। এই পদ্ধতি আপনার একাউন্টে অন্য কাউকে প্রবেশের এক্সেস দিতে বাধা তৈরী করে।

২. আপনার ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন 

নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাইলে ডিভাইস সুরক্ষিত রাখার কোন বিকল্প নেই। কারণ এই ডিভাইসটি ই আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম। ডিভাইস সুরক্ষিত রাখলেই  নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব। 

পাসওয়ার্ড সেফটি

সফটওয়্যার আপ-টু-ডেট:

আপনার ডিভাইসের ব্রাউজার, অপারেটিং সিস্টেম, প্লাগইন ও ডকুমেন্ট এডিটরে সবসময় আপ-টু-ডেট সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। এতে নিরপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন । আপনি নিয়মিত যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন তার আপডেট ভার্সন রাখার চেষ্টা করুন।

লক স্ক্রিন:

আপনার ডিভাইসটি যখন ব্যবহার করছেন না তখন সেটিকে লক করে রাখুন। আপনার অনুপস্থিতিতে যেন কেউ সেটি ব্যবহার করতে না পারে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য,  স্লিপ মুডে গেলেই ফোন লক করার সিস্টেম চালু রাখুন।

হারিয়ে যাওয়া ফোন লক:

আপনার  ডিভাইসে সবসময় আপনার গুগল একাউন্ট লগইন রাখুন। ফোন হারিয়ে গেলে অন্য কোথায়ও জিমেইল লগ ইন করে ‘আপনার ফোন খুৃঁজুুন” অপশনে যান। এতে করে আপনি রিমোট ভাবে আপনার ডিভাইসের লোকেশন শনাক্ত করতে পারবেন। আর ডিভাইস লক করতে পারবেন। 

৩. ফিশিং থেকে সাবধানে থাকুন

ছদ্মবেশীদের এড়িয়ে চলুন 

অপরিচিত কারো সাথে যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার করবেন না। তাছাড়া পরিচিত কারো মেসেজ অস্বাভাবিক মনে হলে তার সাথে আলাদা ভাবে যোগাযোগ করুন। হতে পারে তার একাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। 

ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকু

নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাইলে এই শর্তটি মেনে চলতেই হবে। আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় ব্যক্তিগত তথ্য সাবধানে রাখুন। শেয়ার করার আগে সতর্ক হোন।

কোনো সন্দেহজনক ইউআরএল বা লিংক এড়িয়ে চলুন

অনলাইনে ফিশিং অনেক ভাবে হতে পারে৷ তার মধ্যে একটা হল ফেইক ইউআরএল বা লিংক। তাই সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলুন। সন্দেহ না হলেও যাচাই করে যেকোন লিংকে প্রবেশ করুন।

ই মেইল স্ক্যাম, অনলাইনে ভিত্তিহীন পুরস্কারের ফাঁদ  থেকে সতর্ক থাকুন

ফিশিং এর আরেকটি ধরন হচ্ছে পুরস্কার এর ফাঁদ।  তাই হঠাৎ করেই পুরস্কারের প্রস্তাব দিয়ে কোন লিংকে প্রবেশ  কিংবা তথ্য চাইলে সাবধান থাকুন।

ডিভাইসে কিছু ডাউনলোড করার সময় সাবধান থাকুন

অনেক সময় ডকুমেন্ট, পিডিএফ এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক ফিশিং আক্রমণ করা হয়৷ তাই কিছু ডাউনলোড করার আগে Chrome বা Google drive দিয়ে ফাইলটি খুলে,যাচাই করে তারপর ডাউনলোড করুন।

৪.নিরাপদ নেটওয়ার্কে ব্রাউজ করুন

সবসময় নিরাপদ নেটওয়ার্কে ব্রাউজ করুন

পাবলিক প্লেসের ওয়াইফাই, বিনামূল্যে পাওয়া ওয়াইফাই থেকে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় এই নেটওয়ার্ক এনক্রিপ্ট করা থাকে না। তাই ওপেন ওয়াইফাই ব্যাবহার করলে আশে পাশের কেউ আপনার মূল্যবান তথ্য পেয়ে যেতে পারে 

গোপন কিংবা সংবেদনশীল তথ্য লেখার আগে ইন্টারনেট কানেকশন যাচাই করে নিন

ওয়েব ব্রাউজ, পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ড নাম্বার এসব তথ্য লিখার সময়ে যে সাইটে প্রবেশ করেছেন তার কানেকশন চেক করুন। নিরাপদ সাইট হলে Chrome ব্রাউজারে ইউআরএল এর ফিল্ডে সম্পূর্ণ বন্ধ একটি তালার আইকন  দেখা যাবে। 

৫. একজন সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হয়ে উঠুন

নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই একজন সচেতন ব্যবহারকারী হতে হবে। এ ছাড়া কোনো ভাবেই ইন্টারনেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই একজন সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে-

  • তথ্য দেয়ার আগে ভাবুন
  • তথ্য সংরক্ষণের বেলায় সাবধান থাকুন
  • সাইবার অপরাধ সম্পর্কে জানুন 


শেষ কথা

আপনি নিজে সচেতন না হলে আপনার পক্ষে Safely ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব না।  কারণ মানুষ ইন্টারনেটে যত ধরনের অপরাধের ভুক্তভোগী হয় তার অধিকাংশ নিজের গাফিলতির কারনে হয়। তাই সবার আগে নিজেকে সচেতন করতে হবে। আর সময়ের সাথে চলার চেষ্টা করতে হবে। ইন্টারনেটে দিন দিন অপরাধ বাড়ছে, আবার এর সমাধানও রয়েছে। এজন্য আপনাকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এসব নিরাপত্তার তথ্য গুলো জানতে হবে। ইন্টারনেটে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ছিল আমাদের  আজকের আয়োজন। তাই নিরাপদে ইন্টারনেট ইউজ করার পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করুন এবং সবার সাথে শেয়ার করুন। 

Leave a Comment

Copy link
Powered by Social Snap