স্মার্ট ভাবে কাজ করার উপায় বা পদ্ধতি কি?

একি কাজ আপনি অনেক কষ্টে সমাধান করতে পারেন আবার স্মার্টলি সহজেও করতে পারেন। আপনাকে জাস্ট খুজে বের করতে হবে স্মার্ট ভাবে কাজ করার উপায়।আজকের পোস্টে সেটাই দেখানোর চেষ্টা করবো। কিভাবে আপনি আপনার নির্ধারিত কাজ Smartly Complete করতে পারেন।

স্মার্ট ভাবে কাজ করার ৯ টি টিপস

  1. সাপ্তাহিক প্ল্যান 
  2. মোবাইল এর বিরুদ্ধে শত্রুতা
  3. এক সময়ে এক কাজ
  4. সাজানো গুছানো
  5. ফলাফল নিরিক্ষা
  6. রুটিন ফলো করুন
  7. বিরতি দিন
  8. শেষ করুন 
  9. আলসেমি নয়

এবার আসুন এগুলো কে কিভাবে আপনার প্রজেক্টে কাজে লাগাবেন সেটা নিয়ে একটু বিস্তারিত কথা বলি।
সাপ্তাহিক পরিকল্পনাঃ আপনাকে সাপ্তাহিক ভাবেই পরিকল্পনা করতে হবে এমন না। তবে একটা ব্যাল্যান্স রেখে প্ল্যান করুন। এক ধাক্কায় ৩০ দিনের লম্বা প্ল্যান করলে কাজে ঢিলামি আসবে আবার ৫ দিনের প্ল্যান করলে কাজে বেশি প্রেসার পড়বে এতে করে আপনার কর্মক্ষমতা কমে যাবে।
তাই কাজ বুঝে ব্যাল্যান্স করে ৭ দিন ১০ দিন বা ১২ দিনের একটা প্ল্যান করুন। সেটা পূরণ করে অন্য দিকে যাবেন ।

মোবাইল থেকে দূরে থাকুন 

আপনার কাজ যদি মোবাইল রিলেটেড না হয় তাহলে সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।  কল আসা কল দেওয়া এই কাজের মধ্যেই মোবাইল এর সীমানা দিন। অন্য কোন এপ্স সোশ্যাল মিডিয়া এসবে “একটুদেখে আসি ” করতে যাবেন না। একটু দেখায় আপনার সময় এর ১২ তা বাজাতে যথেষ্ট। এর উপর আছে আপনি এমন কিছু দেখতে পারেন যা আপনার সেই দিনের কাজের মুড ই খেয়ে দিবে!!
দরকার আছে? আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় না ঢুকলেও  দুনিয়া থেমে থাকবে না, যাদের আপন ভাবছেন তাদের দিন ও চলে যাবে কিন্তু আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার পিছে  সময় দিয়ে নিজের কাজে পিছিয়ে গেলে আপনার লস। ফেসবুক আপনাকে হেল্প করবে না। আপন ভাবা মানুষ গুলো আপনার ব্যর্থতার কারনে দূরে চলে যাবে। দিন শেষে লস আপনার।সুতরাং মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।
( উপরের কথা গুলো নিজের শিক্ষা থেকে বলা!!)

একটা কাজে মনোযোগ দিন ঃ

এক সাথে কয়েকটা কাজ করতে গেলে দেখবেন কোন কাজ  ই ঠিক মত সময় মত করতে পারেন নি। এজন্য এক সময়ে একটা কাজে মন দিন। চারিদিকে হাত পা ছড়িয়ে দিলে ভালো কাজ ভালো ফলাফল আশা করা যায় না। ধরুন আপনি অনলাইনে ছোট উদ্যোক্তা, আপনি যদি ২/৩ দিনে সোশ্যাল মিডিয়া রিসার্চ, পেজ গ্রুপ সাজানো , দাড় করানো, প্রোডাক্ট সিলেক্ট করা, কেনা, আবার বিক্রি করার প্ল্যান করেন তাইলে দেখবেন আপনার পেজ গ্রুপ ব্লগ কিছুই ভালো মানের হয় নাই উল্টা কিছু কিছু ডাবল করে করা লাগছে! সময় নষ্ট!!এর চেয়ে একটা কাজ ধরবেন সেটা শেষ করবেন তারপর অন্য কাজে যাবেন।

গুছানো কাজ ঃ

আপনার কাজ কোনটার পর কোনটা করবেন। কিভাবে করবেন কত সময় নিবেন এসব আগে থেকে সাজিয়ে রাখুন। কাজের পরিবেশ গুছানো রাখুন। নেট ব্রাউজ করতে করতে কিংবা টিভি দেখতে দেখতে কাজ করলে আউটপুট ভালো আসার সম্ভাবনা কম।

আউটপুট যাচায় ঃ

কাজ করছেন কিন্তু কাজের ফল নিয়ে চিন্তা ভাবনা নাই। কাজের ফল কি পজিটিভ নাকি নেগেটিভ এসব খুজে না বের করলে সামনে ভুল ঠিক করার সুযোগ পাবেন না। এতে একই ভুল আবার করবেন। তাই ফলাফল নিয়ে বসুন, রিসার্চ করুন।

রুটিন অনুসরণ ঃ

আহ! স্কুলে থাকতে কত রুটিন বানাতাম আর রুটিন ভাংতাম!! লেখাপড়া বাদ দিয়ে রুটিন নিয়ে ডিজাইন করতে করতে সময় এর ১২ টা বাজাতাম!আপনার ক্ষেত্রেও সেম কাহিনি ছিলো! জানি হিহিহিহি।কিন্তু এখন আপনি স্কুলে পড়েন না, ছোট নাই তাই কাজে সিরিয়াস হোন। রুটিন মেনে চলুন।

ব্রেক বা বিরতি নিন ঃ

কাজ করতে করতে বিরতি না নিলে কাজে এক ঘেয়েমি অলসতা চলে আসবে। এটা আপনার কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিবে ভয়ানক ভাবে। তাই বিরতি নিতে কিপটামি করবেন না।মাঝে মাঝে ব্রেক নেওয়া লস না বরং লং  টার্ম ইনভেস্ট বলতে পারেন।আমরা মানুষ, রোবট না।
বাই দা রাস্তা, আপনি যদি কখন বড় হোন বড় কোম্পানির মালিক হোন তাহলে আপনার শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও বিরতির ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন। আমরা সারাজীবন কাজ করতে থাকি, সাজানো ব্রেক পায় না দেখে আমাদের দেশের লোকদের কাজ গুলো হয় দায় সারা টাইপের। তাদের দোষ নাই তারা তো মানুষ। সুতরাং বিরতি নিন বিরতি দিন। 

শেষ করুন ঃ

কাজ শুরু করে অর্ধেকে থেমে যাবেন না। এভাবে করলে দেখবেন আপনার সব কাজ ই অর্ধেক অর্ধেক রয়ে গেছে আপনি কিছুই কমপ্লিট করতে পারেননি আর আধা সফল কাজ কে সফল বলে না।আমি যেমন আগে SEO, Design, Inteligence Analysis, SMM সব দিকে কাজ শুরু করে অর্ধেক অর্ধেক রেখে দিয়ে আসতাম! ফলাফল আমি কোন কাজ ই পুরা শিখিনি পারিনি! এতে আমার ক্যারিয়ার অনেক পিছিয়ে গেছে! তা এই ভুল করবেন না। শুরু করলে তা শেষ করুন। আর শুরু করার আগে ভেবে দেখুন সেই কাজ আপনার কিনা। 

Leave a Comment

Copy link
Powered by Social Snap